পরিবার এবং সন্তান

বাচ্চা না ঘুমালে কি করবেন?

বাচ্চাদের নানা ধরণের সমস্যা থাকে তার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে বাচ্চা ঘুমাতে চায় না। আর এর জন্য বাবা মা কে কম কষ্টও পোহাতে হয় না। আবার বাসার অন্য সদস্যরাও এ ব্যাপারে কষ্ট করে থাকেন। এত চেষ্টার পরও যদি আপনার বাচ্চা সময় মত না ঘুমায় তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনি আপনার বাচ্চাকে নিয়ে চিন্তিত হবেন। কেউ কেউ হয়ত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হবেন। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান চাইলে আপনি খুব সহজেই করতে পারেন। কিছু বিশেষ দিকে নজর রাখুন তবেই চলবে। যেমন-

১। বাচ্চারা অনেক সময় দিনে ঘুমায় বলে রাতে তারা সহজেই ঘুমাতে চায় না বা তাদের ঘুম আসে না। এক্ষেত্রে আপনাকেও আপনার বাচ্চার সাথে শুয়ে থাকতে হবে যতক্ষণ না তার ঘুম আসে। কেননা আপনি উঠে গেলেই সেও আপনার সাথে উঠে যেতে চাইবে। আপনি ঘুম পাড়ানি গান, ছড়া বা গল্প বলতে পারেন তাকে। তাহলে তার বিছানায় আসার একটা আগ্রহ কাজ করবে।

২।  প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় মত বিছানায় আসুন। রূটিন মাফিক বিছানায় আসলে দেখা যাবে আপনার বাচ্চার এই ব্যাপারে অভ্যেস হয়ে যাবে। তখন প্রথম কিছুদিন সমস্যা হলেও এরপর ঘুম না আসার সমস্যাটা খুব বেশি একটা হবে না।

৩। বাচ্চার ঘুমানোর সময় টিভি বন্ধ করে দিন। টিভি চালু করা থাকলে বাচ্চার কখনো সহজে ঘুম আসতে চাইবে না।

৪। রাতে ঘুমানোর সাথে খাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। রাতে ঘুমানোর আগে আপনার বাচ্চাকে খুব বেশি পরিমাণে খাওয়াবেন না। আর এমন কিছু খাওয়ান যাতে ক্যাফিন রয়েছে। তাহলে বাচ্চার ভাল ঘুম হবে।

৫। বাচ্চাদের শোবার পর ঘরের বাতি নিভিয়ে দিন। আলো জ্বলতে থাকলে সে সহজে ঘুমাতে চাইবে না। আপনি চাইলে নাইট ল্যাম্প ব্যবহার করতে পারেন। যা আপনার শিশুর জন্য খুব ভাল ঘুমের পরিবেশ সৃষ্টি করবে। কেননা একদম অন্ধকারে শিশুরা ভয় পেতে পারে।

 

 

 

 

৬। আপনার আলতো স্পর্শ আপনার বাচ্চাকে ঘুম পাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাচ্চার মুখে, পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিন। এতে করে বাচ্চা খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বে।

৭। একদম ছোট বাচ্চার ন্যাপি বদলাতে ভুলবেন না। কেননা ভেজা ন্যাপি বাচ্চার ঘুম নষ্ট করে।

৮। বাচ্চার পাশে ট্যাডি বিয়ার রাখতে পারেন। অনেক বাচ্চাই ট্যাডি বিয়ার নিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করে।

৯। বাচ্চা ঘুমানোর সাথে সাথেই আপনি পাশ থেকে সরে যাবেন না। এতে করে বাচ্চার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। আর তখন খুব সহজে আবার ঘুম আসতে চাইবে না।

১০। আপনার শিশুর ঘুমানোর ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখুন। খুব বেশি বা কম তাপমাত্রা তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

শিশুকে ঘুম পাড়ানোর জন্য দরকার আপনার সঙ্গ, পরিবেশ আর নিয়ম। এই তিনটি জিনিসকে মূল ধরে বাকি দিকগুলোতে একটু লক্ষ্য রাখলেই তার ঘুম নিয়ে আর সমস্যা হবে না।

 

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *