ইন্টারনেট

সোশ্যাল মিডিয়াতে কিভাবে চলা উচিত

ফেসবুকের কল্যাণে বিখ্যাত মার্ক জুকারবার্গ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার সময়ে ‘হার্ভার্ড কানেকশন’ নামের একটি ডেটিং সাইট গড়ে তুলবার পরিকল্পনায় সামিল হয়েছিলেন । এই সাইটে হার্ভার্ডের সব ছেলেমেয়েদের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে রাখবার কথা ছিল । কিন্তু জুকারবার্গের মাথায় অন্যরকম একটি আইডিয়া এল । তিনি এমন একটি সাইট তৈরী করতে চাইলেন যেখানে লোকজন নিজ থেকেই নিজেদের তথ্য এবং ছবি আপলোড করবে- যতটুকু সে চাইবে । শুরু হল ফেসবুকের যাত্রা ।

ইন্টারনেট আর অ্যান্ড্রয়েডের যুগে ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদির মাধ্যমে খুব সহজেই আমরা অনেক কম সময়ে অনেক বেশী বন্ধু তৈরী করতে পারছি, অংশ হতে পারছি অনেক বড় কমিউনিটির । যদিও এর ভাল দিক অনেক বেশী, খারাপ দিকও কিন্তু কম নেই । চিন্তার বিষয় হচ্ছে এই খারাপ অংশটিতে আমাদের নিজেদের অবদানটুকুই কিন্তু সবচে বেশী । আমরা কি নিজেরা আমাদের নিজস্ব ছবি ও তথ্যাদি ঠিক মেপে আপলোড করি ? সোশ্যাল মিডিয়ার এই বিস্তৃত পরিসরে কতটুকু খোলামেলা হওয়া যায়- কোনটা পাবলিক আর কোনটা পার্সোনাল- তার হিসেব কি আমাদের সত্যিই থাকে ?

তাই সোশ্যাল মিডিয়াতে চলার সময় আমাদের নিজেদের জন্যেই নিজেদেরকে সচেতন হতে হবে । আসুন জেনে নেই সোশ্যাল মিডিয়াতে চলার সময় কোন ব্যাপারগুলি আমাদের অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত ।

  • বর্তমান সময়ে স্ক্যামার আর সাইবার ক্রিমিনালদের সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে গেছে । তাই নিজেদের ফোন নাম্বার এবং পার্সোনাল ডিটেইলস যত কম শেয়ার করা যায়, ততই ভাল ।

  • অনেক ওয়েবসাইটই সাইন-আপ করার সময় ‘সিকিউরিটি কোয়েশ্চেন’ এর নামে কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে থাকে । এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিয়ে জেনেরিক উত্তর দেয়াই উত্তম ।

  • কাজ এবং পেশাগত দিকের কম তথ্য শেয়ার করা উচিত । কেননা অতিরিক্ত ডিটেইলস এবং মিটিং এর তথ্যাদি গল্পের ছলে বলাটাও আপনার ক্লায়েন্টের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে ।

  • পার্সোনাল মেসেজের স্ক্রিনশট নেয়ার পদ্ধতি আছে জেনেও মেসেঞ্জার কিংবা হোয়াটস-অ্যাপে আমরা অনেকটাই খোলামেলা ভঙ্গিতে কথা বলি । এগুলি ভবিষ্যত বিপদের কারণ হিসেবে রূপ নিতে পারে ।

  • রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের মতামত কখনোই পাবলিকলি কিংবা ফেসবুকের ফ্রেন্ডগণ্ডির সবার সঙ্গে শেয়ার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয় । আবরার হত্যাকান্ডের মত জঘন্য ঘটনার সূত্রপাত্র এ ধরণের একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমেই হয়েছিল । সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক থাকা খুবই জরুরী ।

  • নিজের অতি ব্যক্তিগত কোনও ছবি ফেসবুক কিংবা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে শেয়ার না করাটাই ভাল । এতে পরবর্তীতে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে ।

  • গুজব কিংবা মিথ্যা তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত । অনেকসময় ফ্রেন্ডলিস্টের পরিচিত কারও শেয়ার করা পোস্টও আমরা সত্যতা যাচাই না করেই নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করে থাকি । এক্ষেত্রে হুট করে দেখেই কোনও কিছু শেয়ার না করাই ভাল ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদেরকে উন্মোচিত করার আগে একটা সেইফ মাত্রা মনের মধ্যে তৈরী করে রাখা খুবই দরকার । যে মাত্রার বাইরে পা পড়লে আপনি নিজেই নিজেকে সতর্ক করতে পারবেন । নিজেদের সুরক্ষা এবং ভাল থাকার জন্য এটুকু করাটা অত্যন্ত জরুরী এবং ফলপ্রসূ ।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *