ক্যারিয়ার জব

কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠার উপায়…

আত্মবিশ্বাস শব্দটি দ্বারা নিজের প্রতি দৃঢ় মনোবল এবং নিজের শক্তি-সামর্থ্যর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস থাকাকে বোঝায়। আত্মবিশ্বাস কেবলমাত্র কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যাক্তিগত জীবনেও অনেক গুরুত্ব বহন করে। কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী থাকা অনেক জরুরি। এতে করে কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা জাগে এবং ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। কিন্তু অনেক সময়ই কর্মক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় যা আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।  আজকে আমরা এসকল প্রতিবন্ধকতা পার করে কিভাবে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলা যায় সেবিষয়ে আলোচনা করব। 

কর্মক্ষেত্রে অনেক সময়ই বৈষম্য এবং অপমানের শিকার হতে হয় যা মানসিকভাবে অনেক প্রভাব ফেলে । এই প্রভাব অনেক সময় অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয় যা কর্মক্ষেত্র, ব্যাক্তিগত জীবন এবং পারিবারিক জীবনেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। অনেক সময় অনেকেই কর্মক্ষেত্রে বুলিং এর শিকার হয় যেমনঃ হাসির পাত্র হওয়া বা অপমানিত হওয়া। জাতি, বর্ণ , ধর্ম, ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড বা মতবাদের ভিত্তিতে বৈষম্য বা আপমানিত  হওয়া, চাকরী চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া, অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও কর্মক্ষেত্রে আরও নানা ধরণের সমস্যা থাকতে পারে যেমনঃ অনিরাপদ কর্মসংস্থান, পর্যাপ্ত সুযোগ- সুবিধা না থাকা এসকল বিষয় কাজের প্রতি অনীহা বা অনাগ্রহ সৃষ্টি করে।  অনেকেই আবার অফিস পলিটিক্সর শিকার হোন যেমনঃ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রোমোশন না পাওয়া, অফিসে স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি।  

এধরণের পরিস্থিতি প্রায় সকল কর্মজীবীদেরই সম্মুখীন হতে হয়। এসকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কিভাবে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলবেন সেই বিষয়ে এখন আলোচনা করবোঃ 

১। অফিসে কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে তা সরাসরি বসকে অথবা উপরস্ত কাউকে জানাতে হবে এবং খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করতে হবে। 

২। কোন ভুল করলে বা কোন কাজে ভুল হলে তা সাথে সাথেই শিকার করে নিন, ক্ষতিপূরণ দিতে বা কাজ ঠিক করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। প্রফেশনাল আচরণ করুন, কাজের ভুলের জন্য বকা খেলে তার জন্য মন খারাপ না করে শিক্ষাগ্রহণ করুন, পরবর্তীতে যেন আর ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। 

৩। নিজেই নিজের সমালোচক হয়ে উঠুন, কারো কাছ থেকে কাজের প্রশংসা আশা করবেন না। 

৪। যেকোন পরিস্থিতির জন্য বিশেষ করে চ্যালেঞ্জিং কাজের জন্য নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখবেন। নতুন কোন চ্যালেঞ্জিং কাজ  দেওয়া হলে ভয় পেয়ে তা এড়িয়ে যাবেন না, এতে করে আপনাকে নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হবে। নতুন কাজকে সুযোগ ভেবে কাজে লাগান এবং যথাযথভাবে করার চেষ্টা করুন, ভুল হলে তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করুন। 

৫। অফিসে সবসময় পরিপাটিভাবে থাকার চেষ্টা করবেন, খুব বেশি জমকালো বা রঙিন পোশাক পরবেন না। সুন্দর পরিচ্ছন্ন পোশাক আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। 

৬। সব সময় অতিরিক্ত কাজের চাপ নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। মনে রাখবেন অফিস এবং টাকা উপার্জন করা জীবনের সব কিছু না। পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন। অফিস থেকে অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়া হলে তা বসকে বুঝিয়ে বলুন, প্রয়োজনে কিছুদিন বিরতি নিন। 

৭। অফিসে কলিগদের সাথে অতিরিক্ত ঠাট্টা-মশকরা করা থেকে বিরত থাকুন, কেননা অফিসে প্রফেশনাল বিহেবিয়ার মেনে চলাই ভালো। অতিরিক্ত হাসি-তামাশা করতে গিয়ে মানুষের হাসির পাত্র হবেন না।  

৮। যেকোন কাজ করার আগে নিজেকে প্রস্তুত রাখুন। কোন অফিসিয়াল মিটিং, প্রেজেন্টেশন বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছুটা নার্ভাস হওয়াটা স্বাভাবিক কিন্তু চেষ্টা করবেন তা কাটিয়ে উঠার। আপনার নার্ভাসনেস যেন আপনার কাজের উপর প্রভাব না ফেলে। প্রেজেন্টেশন বা মিটিং এর আগে প্রস্তুতি নিবেন, কি কি বলবেন টা নোট ডাউন করে রাখতে পারেন, আয়নার সামনে দাড়িয়ে কিছুক্ষন প্র্যাকটিস করতে পারেন। এতে করে জড়তা কেটে যাবে। 

৯। ধৈর্যশীল হতে শিখুন। যেকোন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে না গিয়ে ধৈর্য্য ধরে তা মোকাবেলার চেষ্টা করুন। কোন সমস্যাই কিন্তু চিরস্থায়ী না, আপনার সমস্যাও চিরকাল থাকবে না। তাই ধৈর্যশীল হয়ে কাজ করার চেষ্টা করুন। 

১০। বডি ল্যাংগুয়েজ ঠিক রাখবেন। এটি কর্মক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ । কারো সাথে কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন কেননা অন্য কোথাও তাকিয়ে কথা বললে তা আপনার নার্ভাসনেস, অস্বস্তির বা ভয় এর প্রকাশ ঘটায়। 

১১। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন এবং নিজের সমালোচনা মেনে নিতে শিখুন। অফিসে পিয়ন/স্টাফ থেকে শুরু করে সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলুন, ভালো ব্যবহার করুন। নিজের সমালোচনা মেনে নিয়ে তা শুধরানোর চেষ্টা করুন। সম্ভব না হলে হাসি মুখে এড়িয়ে চলুন। 

১২। অফিসে কেউ আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন, যদি সম্ভব না হয় তাহলে হাসি মুখে, শান্ত ভাবে জবাব দিন, বুঝিয়ে বলুন। উত্তেজিত হওয়া যাবে না। প্রয়োজনে উপরস্ত কাউকে বিষয়গুলো জানান। 

সর্বোপরি নিজেকে সময় দিন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং নিজের খেয়াল রাখুন। পরিবারকে সময় দেওয়া এবং নিজের শখের কাজগুলো করার জন্য কিছুটা সময় আলাদা রাখুন।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *